ঢাকা , বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬ , ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়ে সীমান্তে দুষ্কৃতীতে বাধা দেওয়ায় পোল্ট্রি ব্যবসায়ীকে হুমকি ও অপপ্রচারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-০৫ ০৮:৫২:৩৮
পঞ্চগড়ে সীমান্তে দুষ্কৃতীতে বাধা দেওয়ায় পোল্ট্রি ব্যবসায়ীকে হুমকি ও অপপ্রচারের অভিযোগ পঞ্চগড়ে সীমান্তে দুষ্কৃতীতে বাধা দেওয়ায় পোল্ট্রি ব্যবসায়ীকে হুমকি ও অপপ্রচারের অভিযোগ
মোঃ মোহন মিয়া পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়া উপজেলায় সীমান্তে দুষ্কৃতীকারীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান করায় সফল পোল্ট্রি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানান মাধ্যম অপপ্রচার এবং তার উর্মি পোল্ট্রি ফার্মটি নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, তেঁতুলিয়া উপজেলার দক্ষিণ বোয়ালমারী এলাকার সাইফুল ইসলাম এক সময় বিভিন্ন পোল্ট্রি ফার্মে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ১০ বছর শ্রমিকের কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তার মনে বিশ্বাস জন্মায়—বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান যদি পোল্ট্রি ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে, তবে তিনিও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে এটি শুরু করতে পারবেন। সেই ভাবনা থেকেই শ্রমিকের কাজ ছেড়ে দিয়ে নিজের বাবার সীমান্ত সংলগ্ন পতিত জমিতে ছোট করে পোল্ট্রি ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমে সীমান্তের সংলগ্ন জমিতে একটি ছোট শেডে মাত্র ২০০টি ব্রয়লার মুরগি নিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ব্রয়লার বাদ দিয়ে লেয়ার পোল্ট্রি ব্যবসায়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন তিনি। আস্তে আস্তে একটির পর একটি শেড তৈরি করে বর্তমানে তার খামারে শেড সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪টিতে। ২০০ মুরগি থেকে শুরু করা এই উর্মি পোল্ট্রি ফার্মে এখন প্রায় ১৭ হাজার পোল্ট্রি মুরগি রয়েছে, যা থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪ হাজার ডিম উৎপাদিত হয়।


এক সময়ের পোল্ট্রি শ্রমিক সাইফুল ইসলাম কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ এক জন সফল উদ্যোক্তায় পরিণত হয়েছেন। বর্তমানে তার খামার ও অন্যান্য উদ্যোগে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় শতাধিক মানুষের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। খামারের পাশাপাশি তার রয়েছে নিজস্ব চা বাগান ও সবজি বাগান। এছাড়া উন্নত জাতের বিদেশি ছাগল পালন ও প্রজনন বৃদ্ধির প্রক্রিয়াও শুরু করেন তিনি। খামারের বর্জ্য পরিবেশবান্ধব উপায়ে ব্যবহারের লক্ষ্যে একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরির উদ্যোগও বাস্তবায়ন করছেন তিনি, যা চালু হলে পুরো গ্রামে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি এলাকার সামাজিক উন্নয়ন ও অসহায় মানুষের সহযোগিতায় সবসময় তাকে পাশে পান স্থানীয়রা। তার এই সফলতার পেছনে ব্যাংক, বিমা, এনজিও, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়, কৃষি অফিস এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শুভাকাঙ্ক্ষীদের সার্বিক সহযোগিতা রয়েছে। তবে তার এই অভাবনীয় সফলতা এবং সীমান্তে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থানই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইফুল ইসলাম জানান, তার খামারটি সীমান্তের জিরো লাইনের কাছাকাছি অবস্থিত। খামার ঘেঁষে একটি প্রাকৃতিক নালা রয়েছে, যা বছরের প্রায় ১১ মাসই পানিশূন্য থাকে। স্থানীয় একটি চিহ্নিত দুষ্কৃতকারী চক্র সীমান্তে বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গেলে তিনি তাদের বাধা প্রদান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুষ্কৃতকারীরা তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছে। এমনকি খামার থেকে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে—এমন মিথ্যা অভিযোগ এনে তার প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিসত্তার বিরুদ্ধে নানা মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে চক্রটি। অথচ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খামারের বর্জ্য নির্দিষ্ট সুনির্দিষ্ট কুপ বা হাউসে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা থেকে কোনো দুর্গন্ধ ছড়ায় না এবং বর্তমানে সেখান থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে সাইফুল ইসলাম স্থানীয় বিজিবি, জনপ্রতিনিধি এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন। খামার টি সম্পর্কে স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, এটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকার সার্বিক উপকার হয়েছে। খামারের পাশে এক বাড়ির স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "খামারটি আমার বাড়ির পাশেই। শুরু থেকেই এখানে বসবাস করছি, পরিবেশগত বা অন্য কোনো সমস্যা আমাদের কখনো হয়নি। দূরের মানুষের কী সমস্যা হচ্ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য জানান, "সাইফুল ইসলাম একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও ভালো মনের মানুষ। তিনি বহুকষ্টে শ্রমিক থেকে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন। তার কারণে এলাকার কারো কোনো ক্ষতি হয়নি। আমরা চাই তিনি আরও এগিয়ে যান।" একই কথা ব্যক্ত করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জনাব আশরাফুল ইসলাম বলেন, "অনেক ত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি আজ এই পর্যায়ে এসেছে। নিয়ম কানুন মেনে নিজ বাড়ির আঙিনায় পরিচালনা করা এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বহু বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এতদিন ধরে কেউ এর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। আমরা চাই তিনি আরও সামনে এগিয়ে যান।" তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (উপসহকারী) আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, "উর্মি পোল্ট্রি ফার্মটি আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করি। শুরু থেকেই তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছি।


খামার ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলামকে বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের ব্যাপারে তদারকিকারিগরি নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে খামারটি অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।" স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, একজন সফল উদ্যোক্তার পথচলা রুদ্ধ করতে দুষ্কৃতকারীদের এসব হুমকি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ